মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

চূড়ান্ত ঘোষনার অপেক্ষায় 'নাগাসাকি পীস-পার্ক' এ বাংলাদেশী ভাষ্কর্যের জন্য আয়োজিত উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ফলাফল


প্রকাশন তারিখ : 2015-09-30
          চূড়ান্তভাবে ঘোষনার অপেক্ষায় রয়েছে 'নাগাসাকি পীস-পার্ক' এ নির্মীতব্য বাংলাদেশী ভাষ্কর্যের নকশা নির্বাচনে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতার ফলাফল।  উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্পী ও স্থপতিদের অংশগ্রহনে প্রণীত নক্‌শা হতে সন্মানিত বিচারকমন্ডলীগণের একটি প্যানেল সুচিন্তিত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত করে এনেছেন সম্ভাব্য নকশা।  চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১০টি প্রস্তাবের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রহনযোগ্য ৩টি কে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরষ্কারের জন্য এবং বাকী ৭টি প্রস্তাবকে Honorary Mention এর জন্য নির্বাচিত করা হয়।

 

 

প্রেক্ষাপটঃ

          দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনবিক বোমা হামলায় জাপানের নাগাসাকি ও হিরোশিমা শহর দু’টি বিধ্বস্ত হয়। আনবিক এ বোমা হামলা পৃথিবীর ইতিহাসে কেবল একটি ধ্বংসযজ্ঞের নয় বরং বিশ্ব শান্তি ও মানবতার চরম বিপর্যয়ের স্মৃতি বহন করে। এ প্রক্ষাপটে জাপানের নাগাসাকি পিস পার্ক ‘বিশ্বজনীন শান্তি ও নিরাপত্তার’ প্রতীক হিসেবে গুরুত্ববহ এবং সমগ্র বিশ্বের লাখ লাখ পর্যটকদের কাছে যুদ্ধ বিরোধী, শান্তী-কামী পৃথিবী গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। সেই মনোভাব থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রেরিত বৈশ্বিক শান্তি ও সাম্যের বারতা বহনকারী বিভিন্ন ভাস্কর্য/মনুমেন্ট স্থাপনের জন্য ‘নাগাসাকি পিস পার্ক’-এ বিভিন্ন স্থান সংরক্ষিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি দেশ তাদের ভাস্কর্য সেখানে স্থাপন করেছে।

 

          উল্লেখ্য যে,ভাস্কর্য/মনুমেন্ট নাগাসাকি পিস পার্কের অভ্যন্তরে সবুজ চত্বরে স্থাপিত হবে যার চারিদিকে স্বল্প উচ্চতায় সবুজ হেজ দিয়ে পরিবেস্টিত এবং যার মুলভাব-‘বিশ্ব শান্তি’ অথবা ‘বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা’। প্রস্তাবিত স্থানের সম্মুখে রাস্তা, ডানে ইতালি এবং বামে পোল্যান্ডের ভাস্কর্য অবস্থিত।

 

প্রতিযোগিতার বিস্তারিতঃ

          গত ৬ মে,২০১৫ তারিখে স্থাপত্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রধান স্থপতির সভাপ্রতিত্বে প্রতিযোগীদের মাঝে উক্ত প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী তথা ভাষ্কর্যের পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের তথ্যাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।  গত ৭ জুন,২০১৫ তারিখে উক্ত প্রতিযোগিতার প্রস্তাবিত নকশাসমূহ দুপুর ১২টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্থাপত্য অধিদপ্তরে জমা নেওয়া হয়, যেখানে সর্বমোট ৬২জন প্রতিযোগী তাদের নকশা জমা দেন।  পরবর্তীতে ১৬ জুন,২০১৫ তারিখে জুরি কমিটি ৬২টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৫টি প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে।  ২৩ জুন,২০১৫ তারিখে জুরি কমিটির আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।  উক্ত সভায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৫টি প্রস্তাব থেকে জুরি কমিটি ১০টি প্রস্তাব পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য নির্বাচন করে।

 

          উল্লেখ্য যে, জাপানের ‘নাগাসাকি পিস পার্ক’-এ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি ভাষ্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্থাপত্য অধিদপ্তর ভাষ্কর্য ডিজাইন এর এই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আহ্বান করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে জাপানের ‘নাগাসাকি পিস পার্ক’ এ প্রদান করা এই ভাষ্কর্য বা মনুমেন্টটি সার্বজনীন বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসাবে ‘নাগাসাকি পিস পার্ক’-এ অন্যান্য দেশসমূহের প্রদান করা ভাস্কর্যগুলির সাথে স্বমহিমা ও নান্দনিকতায় স্বকীয়ভাবে অবস্থান করবে।

 

 

          বিচারকমন্ডলী হিসাবে গঠিত জুরি কমিটিতে ছিলেন- স্থপতি রবিউল হুসাইন (আহ্বায়ক), জনাব কবির বিন আনোয়ার [মহাপরিচালক (প্রশাসন), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়], জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম [পরিচালক (ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিক), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়], শিল্পী হামিদুজ্জামান খাঁন [অনারারি অধ্যাপক ভাস্কর্য বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়], জনাব ডঃ মোঃ শহিদুল আমিন [অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ [সভাপতি, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)], স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজুল্লাহ [ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) মনোনীত প্রতিনিধি], জনাব আইনুল ফরহাদ [অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও বিশেষ প্রকল্প), গণপূর্ত অধিদপ্তর], জনাব কাজী গোলাম নাসির [প্রধান স্থপতি, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও জুরি কমিটি সদস্য সচিব]। উল্লেখ্য যে, স্থাপত্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান স্থপতি (সার্কেল-১) জনাব আ.স.ম আমিনুর রহমান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে উক্ত প্রতিযোগিতা ও এর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


Share with :